করোনা মুক্ত পরবর্তী বিশ্ব কেমন হতে পারে?

0
45

বর্তমানে যে সময়টা যাচ্ছে সত্যিকার অর্থেই আমরা পৃথিবী বাসী এই মুহৃর্তটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। পৃথিবীর বড় সর অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক শক্তি সহ আধুনিক টেকনলোজীকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে এক অদৃশ্য ভাইরাস শত্রুর কাছে। অর্থ্যাৎ আপনার সমস্ত শক্তি সামর্থ থাকা স্বত্বেও আপনি প্রতিনিয়ত হেরে যাচ্ছেন কারণ আপনি জানছেন না কিভাবে সেই শক্তিকে ব্যবহার করবেন বা আদৌ সেই শক্তি যথেষ্ট কি না। আর এই সব ভাবনা থেকে বড় বড় টেকনলোজিস্ট, ইকোনোমিষ্ট বা রাস্ট্রের মাথাওয়ালা মানুষগুলো এখনই ভাবতে বসে গিয়েছেন ভবিষ্যতে করোনামুক্ত পৃথিবীতে কি কি পরিবর্তন আসতে পারে ? আর সেই নতুন পৃথিবীর চিত্র কেমন হতে পারে?

আমরা কি প্রস্তুত আছি সেই নতুন পৃথিবীর জন্য? তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ভবিষ্যতের পূর্বাভাস

  1. Contactless Interfaces and Interactions (টাচ বিহীন প্রযুক্তি)

খুব বেশীদিন হয়নি যখন টাচ স্ক্রীন প্রযুক্তি আমাদের হাতের মুঠোয় এসেছে। মোবাইল স্ক্রীনের স্ক্রলিং থেকে শুরু করে কোথায় নেই টাচ স্ক্রীন, ল্যাপটপ, ট্যাব বা ব্যাংকের এটিম বুথ কিংবা কোন সুপার শপের কম্পিউটার সেখানেও টাচ স্ক্রীন। কিন্তু করোনা আমাদের চিন্তাকে পাল্টে দিল। বিজ্ঞান অনুযায়ী ভাইরাসটি যেকোন সারফেসে প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন সময়ব্যপী অবস্থান করে। যার প্রেক্ষিতে যেসব স্থান বা বস্তু আমাদের যতটা সংস্পর্শে আসছে আমরা ততটাই সংক্রমণের ঝুকির মধ্যে পড়ছি।করোনার এমন প্রভাবে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন কিভাবে ফিজিক্যাল টাচ ব্যতীত বা সীমিত করে সব ধরনের যোগাযোগ বা আদান-প্রদান ও বিনিময় করা সম্ভব হবে । আর সেই উত্তর খুঁজতে ভবিষ্যতে জোড়ালো হতে যাচ্ছে Contactless Interfaces and Interactions প্রযুক্তি। যা “Voice” ও “Machine Vision Interface” এর মাধ্যমে Voice Identification ও Face, Gesture Recognition এর দ্বারা কোনপ্রকার টাচ ছাড়াই প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব হবে।

  1. Strengthened Digital Infrastructure (শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো)

Work at Home, Zoom Meeting, Google Meet, Webinar, Facebook Live সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যপারগুলির সাথে আমরা কম বেশী খুব পরিচিত হয়ে উঠছি। কারণ পৃথিবীর অনেককিছুই এখন বন্ধ। মানুুষ Stay Home এ থেকে যার যার লেভেলে কাজ করে যাচ্ছে। সে অফিস হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, মিটিং, অর্ডার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি। অর্থ্যাৎ আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলিকে চালিয়ে নেবার ক্ষেত্রে কোন না কোন উপায়ে Digital Platform এর উপর নির্ভর করছি। আর এসবের পেছনে মূখ্য চালিকা শক্তি ছিল “Social Distance” অর্থ্যাৎ সামাজিক দূরত্ব। চিন্তাবিদরা, সেটাই ভাবছেন ভবিষ্যত পৃথিবীতে মানুষকে সেভাবেই ভাবাবে কতটা দূরত্ব রেখে আমাদের কাজগুলোকে সেরে নিতে পারি। হতে পারে অন্য দেশে না গিয়ে নিজের অফিস থেকেই একটা গ্রুপ মিটিং সেরে ফেলা বা অনলাইন এডুকেশান বা শপিং ইত্যাদি। সুতরাং আসছে ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্লাটফর্ম আরো শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। বলা যায়, না হওয়ার কোন বিকল্পই নেই !

  1. Better Monitoring Using IoT and Big Data (ইন্টারনেট অব থিংস এবং বিগ ডাটা’র ব্যবহার)

সংক্ষেপে আইওটি হচ্ছে, আমাদের ব্যবহারের জিনিসপত্রের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ করা। যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, গাড়ী ইত্যাদির সথে ইন্টারনেট কানেকশান থাকবে এবং ইউজার সেইসব ডিভাইস কন্ট্রোল করবে। আর বিগ ডাটা হচ্ছে বিশাল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ-কারবার।
সম্প্রতি সিংগাপুরে করোনা মোকাবেলায় তাদের সাফল্যের কথা শোনা যায়। তাদের সাফল্যের কারণ কি ছিল ? বিগ ডাটা বা ডাটা সায়েন্স বা মেশিন লার্নিং এর মত যে বিষয়গুলোর ব্যবহার শোনা যায় তা তারা ব্যবহার করেছিল প্রাকটিক্যালী। যখনই প্রথম কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয় তখনই তার মোবাইল ডিভাইসের জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি কোন ট্যাক্সী বা শপিং মলের কোন দোকান বা কোন রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন আর সেসব জায়গায় কারা তার সংস্পর্শ এসেছিলেন সব ডাটা নিয়ে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। সাফল্যও পেলেন। সুতরাং ভবিষ্যতে মহামারী পর্যবেক্ষণ, সতর্কতা তৈরী, আক্রান্ত এলাকার প্রাদুর্ভাব মনিটরিং, সংক্রমক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ ইত্যাদি সহজ হবে। এখানে একটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ “প্রাইভেসী” আপনার গোপনীয়তা নিয়েও বর্তমানে কাজ চলছে। তার অর্থ, ভবিষ্যতের মহামারীগুলিতে আরও কার্যকরভাবে নিরীক্ষণ ও মোকাবেলায় IoT ও Big Data নিয়ে আসছে বিশাল সম্ভাবনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here